কিয়ামতের দিনে মানুষ যখন হিসাবের জন্য আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, তখন দুই ব্যক্তি একে অপরের অভিযোগ করবে।
একজন বলবে,
“হে আল্লাহ, এই মানুষটি দুনিয়ায় আমার প্রতি অন্যায় করেছে। আমার হক (অধিকার) সে ফেরত দেয়নি।”
আল্লাহ তাআলা বলবেন,
“তুমি কী চাও?”
লোকটি বলবে,
“আমি চাই, তার সওয়াব থেকে আমার হক আদায় করা হোক।”
কিন্তু অপর লোকটির ভালো কাজ (সওয়াব) তখন শেষ হয়ে গেছে।
তখন প্রথম লোকটি বলল,
“তাহলে তার গুনাহ আমার নামে লিখে দাও!”
সেই মুহূর্তে পুরো ময়দানে নীরবতা নেমে আসে।
সবাই ভাবল, এবার নিশ্চয়ই এই মানুষটি ধ্বংস হয়ে যাবে।
🌙 আল্লাহর রহমত
আল্লাহ তাআলা তখন বলবেন,
“তোমরা দেখো, এই দুইজনের মধ্যে কেমন বিচার চলছে!
তোমরা কি জানো, আজ এখানে দুনিয়ার কোনো বিচারক নেই — আমিই বিচারক!”
এরপর আল্লাহ বলবেন অন্যজনকে,
“তোমার চোখ তুলে তাকাও।”
লোকটি তাকিয়ে দেখল — সামনে বিশাল এক বাগান, নদী ও প্রাসাদ।
সে বলল,
“হে আল্লাহ! এটা কাদের জন্য?”
আল্লাহ বললেন,
“যে মানুষ আমার সন্তুষ্টির জন্য অন্যকে ক্ষমা করে দেয়, এটা তার জন্য।”
লোকটি কেঁদে ফেলল এবং বলল,
“হে আল্লাহ! আমি আমার ভাইকে ক্ষমা করে দিলাম।”
আল্লাহ তাআলা তখন বলবেন,
“তোমরা এখন হাত ধরাধরি করে জান্নাতে প্রবেশ করো।”
— (হাদীস: মুসনাদে আহমাদ ১২৩৯১)
🌸 শিক্ষণীয় বার্তা
🔹 আখেরাতে প্রতিটি অন্যায়ের বিচার হবে, কিন্তু ক্ষমা করলে আল্লাহও ক্ষমা করেন।
🔹 যে আল্লাহর জন্য অন্যকে মাফ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নির্ধারণ করেন।
🔹 রাগ ও প্রতিশোধ নয় — ক্ষমাই হলো মুমিনের আসল শক্তি।
📖 কুরআনের আলোকে
“যে ব্যক্তি ক্ষমা করে ও সংশোধন করে, তার পুরস্কার আল্লাহর দায়িত্বে।”
— (সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৪০)
“তোমরা যদি ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”
— (সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত ১৪)
⚠️ সত্যতা
এই গল্পটি সহীহ হাদীস ও মুসনাদে আহমাদ (১২৩৯১)-এ বর্ণিত সত্য ঘটনা।
এটি নবী মুহাম্মদ ﷺ স্বয়ং সাহাবিদেরকে বর্ণনা করেছেন, যাতে মানুষ বুঝতে পারে —
আল্লাহর রহমত রাগের চেয়েও শক্তিশালী।
0 comments:
Post a Comment