সৎ ছেলেটি ও একটি খেজুর – একটি শিক্ষণীয় ইসলামিক গল্প

 

একদিন এক ছোট ছেলে গ্রামের পথে হাঁটছিল। সকালবেলা, রোদের মিষ্টি আলো চারদিকে ছড়িয়ে আছে। ছেলেটির পেটে তখন প্রচণ্ড ক্ষুধা। হাঁটতে হাঁটতে সে দেখে, এক গাছের নিচে পড়ে আছে একটি টাটকা পাকা খেজুর। খেজুরটি দেখে তার মুখে পানি এসে গেল। কিন্তু খাওয়ার আগেই ছেলেটি থেমে গেল। মনে মনে ভাবল – এই খেজুর তো আমার নয়, হয়তো কারো জমির গাছ থেকে পড়েছে।

ছেলেটির মন দ্বিধায় পড়ে গেল। একদিকে ক্ষুধা, আরেকদিকে বিবেক। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিল, খেজুরটি না খেয়ে গাছের মালিকের অনুমতি নেবে। সে চারদিকে খোঁজ শুরু করল, গাছটি কার। অনেক জিজ্ঞাসার পর জানা গেল, গাছটি এক বৃদ্ধ কৃষকের জমিতে।

ছেলেটি তৎক্ষণাৎ বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়ল। বৃদ্ধ বাইরে এসে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন – “বাবা, কী দরকার?”

ছেলেটি মাথা নিচু করে বলল, “চাচা, আমি আপনার জমির পাশে একটি খেজুর পেয়েছি। আমি খুব ক্ষুধার্ত ছিলাম, কিন্তু ভাবলাম অনুমতি ছাড়া খাওয়া ঠিক হবে না। আমি কি সেই খেজুরটি খেতে পারি?”

বৃদ্ধ মানুষটি ছেলেটির কথায় মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর চোখে পানি নিয়ে বললেন, “বাবা, আজকাল এমন সততার উদাহরণ পাওয়া কঠিন। তুমি খেজুরটি খেতে পারো, আল্লাহ তোমার জীবনে বরকত দিন।”

ছেলেটি খুশিতে খেজুরটি খেয়ে নিল, কিন্তু তার মনে তখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি পেয়েছে। বৃদ্ধ কৃষক তখন দোয়া করে বললেন, “যে মানুষ ছোট বিষয়ে হালাল-হারাম দেখে চলে, আল্লাহ তার জন্য বড় দরজা খুলে দেন।”

সময়ের সাথে সাথে সেই ছোট ছেলেটিই বড় হয়ে ওঠে এক পরহেজগার ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে। গ্রামের সবাই তার সততা ও ঈমানের জন্য তাকে ভালোবাসে। তার নাম হয়ে ওঠে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।

🌿 **শিক্ষা:** 
ছোট কোনো কাজকেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। হালাল-হারামের প্রতি সচেতন থাকা, সততা ও ভয়ভীতি নিয়ে জীবনযাপন করা—এইগুলোই প্রকৃত ঈমানের চিহ্ন।

✨ আল্লাহ আমাদেরও এমন সৎ ও আমানতদার বানিয়ে দিন। আমিন।

0 comments:

Post a Comment